পেকুয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়ায় মোটরসাইকেলের সঙ্গে এক পথচারীর সংঘর্ষে মো. ফোরকান (৪৮) নামের এক পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আবদুল হামিদ নামের এক পথচারীর একটি পা বিচ্ছিন্ন করতে হয়েছে। তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সদর ছড়াপাড়া স্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফোরকান।

নিহত মো. ফোরকান চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের ছেলবন এলাকার মৃত গোলাম রহমানের ছেলে। তিনি পেকুয়ার রাজাখালী ইউনিয়নের সবুজ বাজারে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পল্লী চিকিৎসক হিসেবে সুনামের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন। পাশাপাশি তিনি রাজাখালী ইউনিয়ন পল্লী চিকিৎসক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্তানদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে প্রায় দুই মাস আগে পরিবার নিয়ে চকরিয়া সদরে একটি বাসা ভাড়া নেন ফোরকান। সেখান থেকে প্রতিদিন মোটরসাইকেলে রাজাখালীর সবুজ বাজারে নিজের চেম্বারে যাতায়াত করতেন তিনি।

শনিবার সকালে পেকুয়া উপজেলা পল্লী চিকিৎসক সমিতির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে সদর ছড়াপাড়া স্টেশন এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন ফোরকান। এ সময় তাঁর মোটরসাইকেলের সঙ্গে পথচারী আবদুল হামিদের সংঘর্ষ হয়। এতে দুজনই সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে দুজনকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টার দিকে ফোরকানের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় আবদুল হামিদের একটি পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা বিচ্ছিন্ন করতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

পেকুয়া উপজেলা পল্লী চিকিৎসক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এমএ রহিম গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “ডা. ফোরকান দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পরম মমতায় রাজাখালী ইউনিয়নের সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন। তিনি শুধু একজন দক্ষ চিকিৎসকই ছিলেন না, একজন সৎ ও অত্যন্ত ভালো মানুষ হিসেবেও এলাকায় সর্বজনশ্রদ্ধেয় ছিলেন। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা বাকরুদ্ধ ও গভীরভাবে শোকাহত।”

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাজাখালীর মানুষের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ফোরকানের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।